‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সিগারেটের দাম যত বেশি হয় তত ভালো অথবা তামাক কোম্পানিগুলো নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিলে সমস্যা নেই’। এমন একটি চিন্তা কিছু তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মীদের মধ্যে পাওয়া যায়। যারা মনে করেন, দাম বেশি হলে মানুষ কম খাবে। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি ইতিবাচক মনে হলেও বিষয়টা আসলে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে। কারণ শুধু দাম বাড়ানোর চিন্তা করা মারাত্মক ভুল চিন্তা। এটা জনস্বাস্থ্য, তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য মোটেও সঠিক নয়, কারণ কোম্পানির হাতকে আরও শক্তিশালী করে। গত কয়েক বছরে এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যৌক্তিকভাবে করহার না বাড়িয়ে মূলত দাম বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল বিগত বছরগুলোতে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব যেমন বেড়েছে,তেমনি সিগারেট কোম্পানিগুলোর মুনাফাও বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মূলত করহার না বাড়িয়ে যদি দাম বাড়ানো হয় তবে এই লাভ বেড়ে যায় বহুগুণ। যেমন– কর না বাড়িয়ে সিগারেটের প্যাকেটে যদি ১০ টাকা দাম বাড়ানো হয়, তবে বাড়তি সেই ১০ টাকার মধ্যে সরকার পাবে ৮ টাকা ১০ পয়সা এবং কোম্পানি পাবে ১ টাকা ৯০ পয়সা। অর্থাৎ সরকার যেখানে পাবে ৮ টাকা ১০ পয়সা, কোম্পানি পাবে প্রায় ২ টাকা। কোম্পানির কোনো ধরনের খরচ বৃদ্ধি না পেয়েই বাড়তি এই টাকা আয়ের সুযোগ পেল তামাক কোম্পানি। শুধু কোম্পানির অতিরিক্ত লাভ হয়েছে। এর ফলে কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
গবেষণা বলছে, ২০০৯ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ২৪ দশমিক ৭০০ বিলিয়ন শলাকা সিগারেট উৎপাদন করে নীট মুনাফা করেছিল ২ বিলিয়ন টাকা (২০৭ কোটি টাকা)। ২০১৮ সালে উৎপাদন বেড়ে হয় ৫১ বিলিয়ন শলাকা সিগারেট এবং নীট মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন টাকা বা ১০০১০ কোটি টাকা অর্থাৎ,১০ বছরে উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও মুনাফা বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ।১ এর মূল কারণ তামাক কোম্পানির ব্যবসাবান্ধব সরকারের করনীতি। যা, কর নীতির দূর্বলতা প্রকটভাবে ফুটে উঠে এসেছে। আর বাড়তি এ মুনাফার টাকা শুধুমাত্র ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করেনি, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের জন্যও ব্যবহার করেছে কোম্পানিগুলো। এই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তামাক কোম্পানির প্রভাব বিস্তারের কারণে যৌক্তিক হারে সিগারেটের কর বৃদ্ধি হয়নি বিগত বছরগুলোতে।
একদিকে এনবিআর তথা সরকার সিগারেটের করহার বাড়ায়নি বা কর বাড়ালেও সিগারেটের দাম বৃদ্ধির চেয়ে কম হারে বাড়িয়েছে। অন্যদিকে কোম্পানিগুলো সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করেছে। এই দুই কারণে প্রতি বছরই কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে বহুগুণে। বৈধ ও অবৈধ দুই ভাবেই তারা মুনাফা বাড়িয়েছে।
সবোর্চ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপির লঙ্ঘন সিগারেট কোম্পানির
তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয় এনবিআরের অনুমোদনক্রমে। কোম্পানির উৎপাদিত সব পণ্য অবশ্যই এনবিআরের নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হয়। প্রতিটি পণ্যের ওপর এমআরপি (MRP) মুদ্রিত থাকে। সিগারেটের ক্ষেত্রে এমআরপি-র চেয়ে বেশি দামে বিক্রি আইনত অবৈধ।
কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বছরের পর বছর খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে আসছে। এজন্য তারা দোকানে দোকানে বিজ্ঞাপন লাগিয়ে এবং মৌখিকভাবে দোকানীদের গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেয়ার নির্দেশ দেয়। অথচ অন্য সব কোম্পানি এমআরপি-র চেয়ে কম দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে।
যেমন, ৫ টাকার লেক্সাস বিস্কুট দোকানিরা ৪ টাকায় কিনে এমআরপি লেখা ৫ টাকায় বিক্রি করে। ১৫ টাকার বোতলজাত পানি ১০ টাকায় কিনে তারা এমআরপি অনুযায়ী ১৫ টাকাতেই ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করে। এতে তাদের ৫ টাকা লাভ থাকে বলে ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ তারা কমিশন পায় উৎপাদকদের কাছ থেকে। কিন্তু সিগারেট কোম্পানিগুলো খুচরা বিক্রেতাদের কোনো কমিশন না দিয়ে এমআরপির চেয়ে বেশি দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করে। এর ফলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। 
২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ (বিইআর) গবেষণা ও একাত্তর টেলিভিশনের সুশান্ত সিনহার বাজার পর্যবেক্ষন নিয়ে প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রতিদিন গ্রাহকদের কাছ থেকে গড়ে প্রতি শলাকা সিগারেটে প্রতি ১ টাকা বেশি নিয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন বাড়তি ২০ কোটি টাকা,মাসে ৬০০ কোটি টাকা,বছরে প্রায় ৭,২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোম্পানিগুলো।২ অথচ বিপুল অংকের টাকা জনগণের কাছ থেকে আদায় করলেও কানাকড়ি রাজস্ব পায় নি সরকার। যদিও এই বাড়তি টাকার মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা সরকারের। একাত্তর টেলভিশিনে প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট(এলটিইউ) তদন্ত করে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পায়। এবং সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের বাজেটে এসআরও সংশোধন করে সব ধরনের সিগারেটের প্যাকেটে এমআরপি লেখা বাধ্যতামূলক করে। যা বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও গুণগত বড় ধরনের পরিবর্তন।
| সিগারেট | ২০১৯-২০ | ২০২০-২১ | ২০২১-২২ | ২০২২-২৩ | ২০২৩-২৪ |
| প্রিমিয়াম | ৫৭৫ | ৫৭৭ | ৬৮৬ | ৬৪৩ | ৫৬৪ |
| উচ্চ | ৬০০ | ৫৬৭ | ৩৯০ | ৩২৯ | ২৯৬ |
| মধ্যম | ৮৭৪ | ৬০০ | ৬৫১ | ৮৮০ | ১২৫৭ |
| নিম্ন | ৫২৫৮ | ৫৪৪৭ | ৫৩৩০ | ৬১৪৪ | ৬৩৪৩ |
| মোট | ৭,৩০৭ | ৭,১৯১ | ৭,০৫৭ | ৭,৯৯৬ | ৮,৪৫৯ |
বেড়েছে সিগারেট উৎপাদন, সিগারেট কোম্পানিগুলো এখন দৈনিক ২৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে
২০২২-২৩ অর্থবছরে সিগারেট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন শলাকা। প্রতিটি শলাকা সিগারেট থেকে ১ টাকা করে বেশি নিলে প্রতিদিন ২২ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোম্পানিগুলো। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিগারেটের উৎপাদন বেড়ে ৮৪.৬ বিলিয়ন শলাকা এবং ফলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। বছরে যা ৮,৪৬০ কোটি টাকা বা ৮৪ বিলিয়ন টাকা । অথচ বিশাল এই টাকা থেকে রাজস্ব কোনো ট্যাক্স-ভ্যাটসহ রাজস্ব পায় নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। পুরোটায় গিয়েছি সিগারেট কোম্পানির পকেটে।
সিগারেটের বাজার হিস্যা কোন কোম্পানির কত?
বাংলাদেশের সিগারেটের বাজারে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ হিস্যা প্রায় ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশিয় কোম্পানি আবুল খায়ের টোব্যাকো,যাদের বাজার শেয়ার ৬–৭ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে জাপান টোব্যাকো, বাজার শেয়ার ৫–৬ শতাংশ। অন্য আরও কয়েকটি ছোট দেশিয় কোম্পানি থাকলেও তাদের বাজার হিস্যা খুবই সামান্য।
সিগারেটের প্রতিটি স্তরেই কোম্পানির এমআরপি লঙ্ঘন ও ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে কোম্পানি
প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট: বাংলাদেশের বাজারের প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট বিএটির বেনসন সিগারেট, অ্যালকেমি সিগারেট এবং ফিলিপ মরিসের মালবোরো সিগারেট। এর মধ্যে বেনসন ও মালবোরো সিগারেট বহুল প্রচলিত। নিয়ন্ত্রিত পণ্য হিসাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ২০ শলাকা বেনসন সিগারেটের প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি বেঁধে দিয়েছে ৩৭০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি শলাকা বেনসন সিগারেটের দাম হয় ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু ভোক্তাদের প্রতি শলাকা বেনসন সিগারেট কিনতে হচ্ছে ২০ টাকা করে। আর বেনসন সিগারেটে প্রতি প্যাকেট কিনতে হচ্ছে ৪০০ টাকায়। অথচ সরকার নির্ধারিত বেনসনের দাম ৩৭০ টাকা। সিগারেট কোম্পানির বৈধভাবে প্রতি প্যাকেটে ৩০ টাকা করে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তবে ভোক্তাদের কাছে বাড়তি ৩০ টাকার মধ্যে ২৪ টাকা ৯০ পয়সা সরকারের রাজস্ব রয়েছে। কিন্তু সিস্টেমে ফেলে এই ৩০ টাকার পুরোটাই সিগারেট কোম্পানি হাতিয়ে নিচ্ছে।
একইভাবে ফিলিপ মরিসের মালবোরো সিগারেটের প্রতি শলাকা সিগারেটে দেড় টাকা করে বাড়তি নিচ্ছে কোম্পানি। শুধু প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট নয়, বছরের পর বছর ধরে সিগারেট কোম্পানিগুলো ভোক্তাদের কাছে এমআরপির চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করছে। অনেকেই বলেন,ভোক্তাদের কাছ থেকে যে বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে তা কোম্পানি নিচ্ছে না,নিচ্ছে দোকানীরা। বিষয়টি মোটেও সত্য নয়,কারণ ৩৭০ টাকা দামের এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট খুচরা দোকানীদের কাছে ৩৬৯ টাকা ৯৮ পয়সায় বিক্রি করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ।
আগেই বলেছি,৫ টাকার লেক্সাস বিস্কুট খুচরা দোকানীদের কাছে ৪ টাকায় বিক্রি করে উৎপাদকরা। ১ টাকা কমিশন পাওয়ায় দোকানীরা এমআরপি মূল্য অনুযায়ী ৫ টাকায় বিক্রি করে। অথচ ৩৭০ টাকার এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট বিক্রি করে মাত্র ২ পয়সা লাভ করবে দোকানীরা? ৩৭০ টাকার পণ্যে এক টাকাও কমিশন দেয় না সিগারেট কোম্পানি বিএটি, ফিলিপ মরিসের মতো বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানিগুলো। যারা নিজেদের স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসা করার দাবি করে আসছে। উপরন্তু দোকানদার কমিশন বা লাভ না দিয়ে বাড়তি দামে বেনসনসহ সব সিগারেট বিক্রি করতে বিজ্ঞাপন দেয় কোম্পানি। যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ এবং আইনের লঙ্ঘন। বছরের পর বছর বৈধভাবে এই অবৈধ ব্যবসা বাংলাদেশে করছে বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানিগুলো।
| কোম্পানি | প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড | এমআরপি
(২০ শলাকা) |
ভোক্তা কিনছে | প্রতি প্যাকেটে বেশি নিচ্ছে | প্রতি শলাকায় বেশি নিচ্ছে |
| বিএটি | অ্যালকেমি | ৩৯০ টাকা | ৪৫০ টাকা | ৭০ | ৩.৫ টাকা |
| বিএটি | বেনসন | ৩৭০ | ৪০০ | ৩০ | ১.৫ টাকা |
| ফিলিপ মরিস | মার্লবোরো | ৩৭০ | ৪০০ | ৩০ | ১.৫ টাকা |
| কোম্পানি | উচ্চ ব্র্যান্ড | এমআরপি
(২০ শলাকা) |
ভোক্তা কিনছে | প্রতি প্যাকেটে বেশি নিচ্ছে | প্রতি শলাকায় বেশি নিচ্ছে |
| বিএটি | গোল্ডলিফ | ২৮০ | ৩০০ | ২০ | ১ টাকা |
বিএটির অ্যালকেমি সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩৯০ টাকা। কিন্তু সিগারেটের ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি করছে ৪৫০ টাকা প্যাকেট। এখানেও প্রতি প্যাকেট অ্যালকেমি সিগারেটে বেশি নেয়া হচ্ছে ৭০ টাকা । এই যে এমআরপির চেয়ে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে ভোক্তাদের কাছ থেকে সেখানে কিন্তু সরকার ৮৩ শতাংশ হারে ট্যাক্স-ভ্যাট পাওয়ার কথা। কিন্তু তা পাচ্ছে না সরকার। ফলে সিগারেটের উৎপাদন যত বাড়বে, তত বাড়বে ট্যাক্স ফাঁকির পরিমাণ। আর মুনাফা বাড়বে সিগারেট কোম্পানির। এভাবে প্রতিদিন ২৩ কোটি টাকার বেশি জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে সিগারেট কোম্পানিগুলো।
উচ্চ স্তরের সিগারেট: উচ্চ স্তরে একমাত্র রয়েছে বিএটির গোল্ডলিফ সিগারেট। ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের সবোর্চ্চ খুচরা মূল্য বেঁধে দেয়া আছে ২৮০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি শলাকার দাম হওয়ার কথা ১৪ টাকা। কিন্তু সিগারেট কোম্পানিগুলোর কূটকৌশলে প্রতি শলাকা গোল্ডলিফ সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ২০ শলাকার প্যাকেটে ২০ টাকা বেশি নিচ্ছে কোম্পানি। এখানেও বাড়তি ২০ টাকার মধ্যে ৮৩ শতাংশ হিসাবে প্রায় ১৭ টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা । কিন্তু একটি টাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না এনবিআর।

মধ্যম স্তরের সিগারেট: গেল কয়েক বছরে বাংলাদেশে মধ্যম স্তরের সিগারেটের উৎপাদন বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। কারণ,মধ্যম স্তরে সিগারেটের দামের পার্থক্যটা তুলনামূলকভাবে বেশি এবং সঙ্গতকারণেই নীট মুনাফাও বেশি তামাক কোম্পানির। তাই কোম্পানিগুলো এই মধ্যম স্তরের সিগারেটের উৎপাদন বাড়িয়েছে, এনেছে নতুন নতুন ব্র্যান্ডের সিগারেট।
| কোম্পানি | মধ্যম স্তরের ব্র্যান্ড | এমআরপি
(২০ শলাকা) |
ভোক্তা কিনছে | প্রতি প্যাকেটে বেশি নিচ্ছে | প্রতি শলাকায় বেশি নিচ্ছে |
| বিএটি | লাকি স্ট্রাইক | ২১৬ টাকা | ২৪০ টাকা | ২৪ টাকা | ১.২০ টাকা |
| বিএটি | ষ্টার | ১৮০ | ২০০ | ২০ | ১ টাকা |
| জেটিআই | ক্যামেল | ১৮০ | ২০০ | ২০ | ১ টাকা |
| জেটিআই | নেভি | ১৬০ | ১৮০ | ২০ | ১ টাকা |
| বিএটি | লাকিস | ১৭৬ | ২০০ | ২৪ | ১.২০ টাকা |
| আবুল খায়ের | ম্যাক্সিম | ১৬০ | ২০০ | ৪০ | ২ টাকা |
| হেরিটেজ টোব্যাকো | ব্ল্যাক | ১৬০ | ২০০ | ৪০ | ২ টাকা |
মধ্যম স্তরে বিএটি’র লাকি স্ট্রাইক সিগারেটের ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের সবোর্চ্চ খুচরা মূল্য ২১৬ টাকা। কিন্তু ক্রেতাদের তা কিনতে হচ্ছে ২৪০ টাকায়। লাকি স্ট্রাইক সিগারেটের প্রতি শলাকার দাম ১০ টাকা ৮ পয়সা হলেও তারা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে ১২ টাকা করে। একইভাবে বিএটির স্টার সিগারেট ও জাপান টোব্যাকোর ক্যামেল সিগারেটের এমআরপি ১৮০ টাকা হলেও ভোক্তাদের দিতে হচ্ছে ২০০ টাকায়। অলিখিতভাবেই প্রতি শলাকা ৯ টাকা করে হলেও শলাকা প্রতি ১ টাকা করে বাড়তি নিয়ে বিক্রি করছে ১০ টাকায়।
অন্যদিকে জাপান টোব্যাকোর মধ্যম স্তরের নেভি সিগারেট প্রতি শলাকা বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকায়। যদিও নেভি সিগারেটের এমআরপি মূল্য ৮ টাকা এবং ২০ শলাকার প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৬০ টাকা। এখানেও প্রতি শলাকায় ১ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, সরকার সিগারেটে মধ্যম স্তরের ২০ শলাকার এমআরপি ১৮০ টাকা ঠিক করে দিলেও বাজারে রয়েছে ১৬০ টাকা, ১৭৬ টাকা, ১৮০ টাকা এবং ২১৬ টাকার চার ধরনের দামের ব্র্যান্ডের সিগারেট।
বিএটির লাকিস সিগারেটের প্রতি ২০ শলাকার এমআরপি ১৭৬ টাকা। কিন্তু তা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে ২০০ টাকায়। এখানেও ২৪ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। সদ্য বাজারে আসা আবুল খায়ের টোব্যাকোর ম্যাক্সিম সিগারেটের ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৬০ টাকা। কিন্তু ম্যাক্সিম সিগারেট ক্রেতাদের কাছে ২০০ টাকা প্যাকেট বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে হেরিটেজ টোব্যাকোর ব্ল্যাক সিগারেটের এমআরপি ১৬০ টাকা কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। প্রতি শলাকায় ২ টাকা করে এবং প্রতি প্যাকেটে ৪০ টাকা বেশি নিচ্ছে কোম্পানিগুলো।
নিম্ন স্তরের সিগারেট: বাংলাদেশে স্লিম সিগারেটের চাহিদা বেশ বেড়েছে। ক্রেতা ধরতে তাই আবুল খায়ের টোব্যাকো নিম্ন সিগারেটে এরিস নামে সরু বা স্লিম সিগারেট বাজারে এনেছে। ২০ শলাকার এরিস সিগারেটের এক প্যাকেটের সবোর্চ্চ খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। অথচ ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকায়। প্রতি প্যাকেটে ৩০ টাকা বাড়তি নিচ্ছে জনসাধারণের কাছ থেকে। একইভাবে গেল দু’বছরে নিম্ন স্তরে এলডি সিগারেট, ম্যাক্সিম সিগারেট, এভন সিগারেট, প্রাইম সিগারেট, মেসি সিগারেটসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে এনেছে দেশি-বিদেশি সিগারেট কোম্পানিগুলো। ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিম্ন স্তরের সিগারেটের ট্যাক্স হার কম থাকায় অধিক মুনাফা লাভের সুযোগ পেত কোম্পানিগুলো। গেল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিম্ন স্তরের সিগারেটের কর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ওপরের তিন স্তরের সমান অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ করা হয়েছে। যার ফলে সিগারেটের কর কাঠামোর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী পরিবর্তন হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের সিগারেটের ৭৫ শতাংশের বেশি নিম্ন স্তরের সিগারেট।
বর্তমানে দেশের বাজারে ১৫ টির বেশি দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের নিম্ন স্তরের সিগারেট পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত সিগারেটগুলোর মধ্যে ডার্বি, পাইলট, হলিউড, রয়েলস, শেখ, এলডি অন্যতম। এর মধ্যে ডার্বি সিগারেটের প্রতি ২০ শলাকার প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি ১৪৪ টাকা। পাইলট সিগারেটের দাম ১৪৪ টাকা। হলিউড সিগারেটের দাম ১৪৪ টাকা এবং শেখ সিগারেটের প্রতি ২০ শলাকার প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য – এমআরপি ১৪৪ টাকা। যদিও এই চারটি সিগারেটের প্যাকেট ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি প্যাকেটে ১৬ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এখানেও দোকানদারদের কমিশন বঞ্চিত করে ভোক্তাদের কাছে বাড়তি দাম নেয়ার নির্দেশ দেয় সিগারেট কোম্পানিগুলো।
এজন্য রীতিমত কোন সিগারেট কত দামে বিক্রি করতে হবে সেই বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে দোকানে দোকানে স্টিকার লাগিয়ে রাখে কোম্পানির লোকজন।
| কোম্পানি | নিম্ন স্তরের
ব্র্যান্ড |
এমআরপি
(২০ শলাকা) |
ভোক্তা কিনছে | প্রতি প্যাকেটে বেশি নিচ্ছে | প্রতি শলাকায় বেশি নিচ্ছে |
| বিএটি | পাইলট | ১৪৪ টাকা | ১৬০ টাকা | ১৬ টাকা | ০.৮০ টাকা |
| বিএটি | ডার্বি | ১৪৪ | ১৬০ | ১৬ | ০.৮০ টাকা |
| বিএটি | হলিউড | ১৪৪ | ১৬০ | ১৬ | ০.৮০ টাকা |
| বিএটি | লন্ডন কাট | ১২৬ | ১৪০ | ১৪ | ০.৭০ টাকা |
| বিএটি | রয়েলস | ১২৬ | ১৪০ | ১৪ | ০.৭০ টাকা |
| জেটিআই | শেখ | ১৪৪ | ১৬০ | ১৬ | ০.৮০ টাকা |
| জেটিআই | এলডি | ১২০ | ১৪০ | ২০ | ১ টাকা |
| আবুল খায়ের | ব্লাক ডাইমন্ড | ১২০ | ১৪০ | ২০ | ১ টাকা |
| জেটিআই | এল ডি | ১২০ | ১৪০ | ২০ | ১ টাকা |
| আবুল খায়ের | এভন | ১৪০ | ১৬০ | ২০ | ১ টাকা |
| আবুল খায়ের | এরিস স্লিম | ১৩০ | ১৬০ | ৩০ | ১.৫০ টাকা |
| এশিয়ান টোব্যাকো | মেসি | ১২০ | ১০০ | -২০ | |
| ভারগো টোব্যাকো | দেশি গোল্ড | ১২০ | ১০০ | -২০ |
নিম্ন স্তরের সর্বাধিক ব্যবহৃত ব্র্যান্ডের মধ্যে আরও রয়েছে রয়েলস সিগারেট,যার প্রতি ২০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১২৬ টাকা। রয়েলস লন্ডন কাট সিগারেটের ২০ শলাকার দামও ১২৬ টাকা। কিন্তু ভোক্তাদের কিনতে হয় প্রতি পিস ৭ টাকা হিসাবে ১৪০ টাকা প্যাকেট। এখানেও প্যাকেট প্রতি ১৬ টাকা বেশি নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। এছাড়াও নিম্ন স্তরের এলডি সিগারেট এবং ব্ল্যাক ডায়মন্ড সিগারেটের ২০ শলাকার দাম সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১২০ টাকা। অথচ ক্রেতাদের প্যাকেট প্রতি ২০ টাকা বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে।
সদ্য বাজারে আসা আবুল খায়ের টোব্যাকোর এভন সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৪০ টাকা। কিন্তু বাজারের ভোক্তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১৬০ টাকা। এখানেও প্যাকেট প্রতি ২০ টাকা বাড়তি নেয়া হচ্ছে। এরিস সিগারেটের ২০ শলাকার প্যাকেটের এমআরপি ১৩০ টাকা কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা বেশিতে অর্থাৎ ১৬০ টাকায়।
এমআরপির চেয়ে কম দামে কয়েকটি কোম্পানির সিগারেট বিক্রির রহস্য?
এশিয়ান টোব্যাকোর মেসি সিগারেট ও ভারগো টোব্যাকোর দেশি গোল্ড সিগারেট দুটি নিম্ন স্তরের সিগারেট। মেসি সিগারেট ও দেশি গোল্ড সিগারেটের ২০ শলাকার প্যাকেটের এমআরপি ১২০ টাকা হলেও ক্রেতাদের কাছে দোকানীরা ১০০ টাকায় বিক্রি করছে,প্রতি শলাকা ৫ টাকা হিসাবে। যদিও সরকার নির্ধারিত সিগারেট এমআরপির চেয়ে কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই। বিক্রেতারা বলছেন,তারা কোম্পানির কাছ থেকে ৮৫ টাকায় কিনতে পারে ২০ শলাকার এক প্যাকেট মেসি ও দেশি গোল্ড সিগারেট। তাই তারা ১৫ টাকা লাভে ১০০ টাকায় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। এ দুটি সিগারেটের বিক্রি খুবই কম,তাই বাজার ধরতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে বাজার ধরতেই এই চেষ্টা।
এখানে খতিয়ে দেখা দরকার, তারা সরকারকে ১২০ টাকা এমআরপির ওপর ৮৩ টাকা ট্যাক্স দিলে কিভাবে তারা ৮৫ টাকায় বিক্রি করছে দোকানীদের কাছে? ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উচিত এসব সিগারেট কোম্পানি কোনো ধরনের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে কিনা তা আরও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা।
সিগারেট কোম্পানির বৈধভাবে অবৈধ ব্যবসা কী চলতেই থাকবে?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর প্রতিবছর বাজাটে সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বেঁধে দেয়। কিন্তু সিগারেট কোম্পানিগুলো কূটকৌশল আর জালিয়াতি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্য আদায় করে চলছে এমআরপি লংঘন করে। অনেকটা অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করে বছরে ৭ থেকে ৮ হাজার কোট টাকা জনগণের পকেট কাটছে সিগারেট কোম্পানিগুলো।
এখানেই শেষ নয়, প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার বাজেটে সিগারেটের দাম ও কর বৃদ্ধি করে। নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন দামের সিগারেট বাজারে আনতে হবে কোম্পানিগুলোকে । এমনকী বাজেটের পুর্বে উৎপাদিত পুরোনো দাম সম্বলিত সিগারেটগুলোতে নতুন দামের স্টিকার বসিয়ে বিক্রির নির্দেশনা দিয়ে থাকে এনবিআর। কিন্তু সেই নির্দেশনা পরোয়া না করে বাজেটের চার থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত পুরোনো দামের সিগারেট বিক্রি করে কোম্পানি। তারা নতুন দামের সিগারেট বাজারে না এনে কোম্পানির গুদামজাত পুরোনো দামের সিগারেট নতুন দামে বিক্রি করে কোটি কোটি হাতিয়ে নেয়। চলতি বছরেও জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সিগারেট কোম্পানিগুলো তাদের পুরানো দাম মুদ্রিত স্টক সিগারেট নতুন দামে বিক্রি করে
স্টক বা মজুদদারি করে পুরোনো সিগারেট নতুন দামে বিক্রি করে কৌশলে মাসে ১০০ কোটি টাকা বা ১ বিলিয়ন ডলার টাকা হাতিয়ে নেয় বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানি বিএটি। এই মজুদদারি করে পুরানো দামের সিগারেট নতুন দামে বিক্রি করার বিষয়টি তুলে ধরে একাত্তর টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে এনবিআর। অভিযান চালিয়ে বিএটি ও জেটিআই এর গুদামে বিশাল পরিমাণ সিগারেট মজুদ রাখার প্রমাণ পায় এবং দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বা ৪ বিলিয়ন টাকার কর ফাঁকির প্রমাণ পায়।৩ যা সাম্প্রতিক সময়ে বড় অভিযান এবং সাফল্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের।
তবে এমআরপি লঙ্ঘন করে ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৩ কোটি টাকা বেশি নেয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী বাজার নজরদারির এখতিয়ার তাদের নেই। এই দায়িত্ব জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের। কিন্তু ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিগারেটের বাজারে বাড়তি মূল্য নেয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযান না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তা স্বার্থ, কর ফাঁকি হচ্ছে বছরে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বা ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন বাংলাদেশি টাকা। সবার চোখের সামনে বৈধভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে সিগারেট কোম্পানিগুলো। ফলে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বাজারে অন্যান্য পণ্যের মতো এমআরপি মূল্যে সিগারেট বিক্রি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেবে এটাই কাম্য।
লেখক: সুশান্ত সিনহা, বিশেষ প্রতিনিধি,একাত্তর টেলিভিশন ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক , যোগাযোগ:sinhasmp@yahoo.com
তথ্য সূত্র:
১. https://wclh2020.abstractserver.com/WCLH2020_abstract_book_high.pdf
২.https://www.sushantaksingha.com/2025/07/27/cigarette-companies-deceive-consumers-pocketing-extra-bdt-20-million-daily-over-fixed-prices/
৩. https://www.tbsnews.net/bangla/অর্থনীতি/news-details-293346