প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বসবাসের দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশসমূহ—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ—একই ঔপনিবেশিক ইতিহাস, আইন-কানুন ও জীবনধারায় পরিচিত হলেও এ অঞ্চলের সাংবাদিকতার কাঠামো ও বাস্তবতায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। মানুষের মাঝে গড়ে উঠেছে দৃশ্যমান দূরত্ব। এই ব্যবধান কমাতে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে মানুষে–মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি, আর সেই যোগাযোগের সবচেয়ে কার্যকর ও শক্তিশালী মাধ্যম হলো সাংবাদিকতা।
আমি মনে করি, দক্ষিণ এশিয়ার অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার যে উদ্যোগ GIJN নিয়েছে, তা ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর অনিয়ম, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নদী ও পরিবেশগত সংকটসহ আন্তঃসীমান্ত ইস্যুতে যৌথভাবে কাজ করা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আমাদের দেশগুলোর জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কও গভীরতর হবে।
আঞ্চলিক আস্থা, সংযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া পুনর্গঠনে সাংবাদিকতাই সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং কার্যকর মাধ্যম। তাই প্রায় ২০০ কোটি মানুষের এই বৃহৎ অঞ্চলের স্বার্থে এই উদ্যোগ এখনই কার্যকর করা অত্যন্ত প্রয়োজন। গতকাল সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্সে দক্ষিণ এশিয়ার শতাধিক সাংবাদিকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আমি এই ভাবনা তুলে ধরেছি।